Posts

হিসাব নিকাশ

 হিসাব নিকাশ: ওনারা অর্থাৎ মালাইকাগণ আমরা যা কিছু বলি ( ৫০:১৮) এবং যা কিছু করি তার আমলনামা বা কর্ম লিপি লেখেন ( ৫০:১৭) । এটাকেই অডিও ভিডিও রেকর্ড করছেন লেখা হয়েছে তা দেখিবে (৮৪:৬)।  আল্লাহ্ মনের খবর জানেন ( ৫:৭) এই আয়াতের আলোকে মনের কথা, ভাবনা, চিন্তা, পরিকল্পনা শুধু মাত্র আল্লাহ্ জানেন (৩:২৯, ৫০:১৬) ।  আমরা যা ফেলে যাই বা রেখে যাই তার হিসাব একমাত্র আল্লাহ্ রাখেন (২:১১০ , ৫৭:৭, ১১)।  যেমন: সিনেমা হল বানিয়ে গেলেন না কি মসজিদ নির্মাণ করে গেলেন এসব আল্লাহ্ সাক্ষী । সৎ কাজের আদেশ এর ফল যেমন পাবেন, অসৎ কাজের ফলও তেমনি পাবেন, সব আল্লাহর কাছে হিসাব কিয়ামত তক । একটা আয়াত মনে হয় এমন আছে - রবের হিসেবে তোমরা কিয়ামত পর্যন্ত কাটিয়েছ ( ৩০:৫৫,৫৬)  । মোট কথা সাক্ষী হিসেবে আল্লাহ্ই যথেষ্ঠ ( ৬:১৯, ১০:২৯,৬০)। ফেরেশতারা যেমন সাক্ষী ( ৫০:১৭-২৩) , মানুষও মানুষের সাক্ষী (২৪:১৩,১৪  ৬৫:২ ), রাসূলও সাক্ষী (২১:৬৭,  ৪৮:৮, ৩৯:৬৯, ৭৩:১৫)  । মরণের সময়: (মরণের দূতদের দেখে) সে বলিবে হায়! আমার এই জীবনের জন্য / পরকালের জীবনের জন্য আমি যদি কিছু অগ্রিম পাঠাইতাম, (নিজের জন্য...

শান্তি স্থাপন করা মুমিনদের একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য:

 ইসলাম শান্তির ধর্ম: শান্তি স্থাপন করা মুমিনদের একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য: তোমরা সৎকাজ, আত্মসংযম ও মানুষের মধ্যে শান্তি স্থাপন হইতে বিরত রহিবে - এই শপথের জন্য আল্লাহ্‌র নামকে তোমরা অজুহাত করিও না। আল্লাহ্‌ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞা। وَلَا تَجْعَلُوا اللّٰهَ عُرْضَةً لِّاَيْمَانِکُمْ اَنْ تَبَرُّوْا وَتَتَّقُوْا وَتُصْلِحُوْا بَيْنَ النَّاسِ‌ؕ وَاللّٰهُ سَمِيْعٌ عَلِيْمٌ সূরা নম্বর: ২ আয়াত নম্বর: ২২৪ ঘরে বাইরে আচার ব্যবহারে একজন মুসলিমের দায়িত্ব: তোমরা আল্লাহর ‘ইবাদত করিবে ও কোন কিছুকে তাঁহার শরীক করিবে না; এবং পিতা - মাতা, আত্মীয় - স্বজন, ইয়াতীম, অভাবগ্রস্ত, নিকট - প্রতিবেশী, দূর - প্রতিবেশী, সঙ্গী - সাথী, মুসাফির ও তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস - দাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহার করিবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ পসন্দ করেন না দাম্ভিক, অহংকারীকে। وَاعْبُدُوا اللّٰهَ وَلَا تُشْرِكُوْا بِهٖ شَيْــًٔـا‌ ؕ وَّبِالْوَالِدَيْنِ اِحْسَانًا وَّبِذِى الْقُرْبٰى وَالْيَتٰمٰى وَ الْمَسٰكِيْنِ وَالْجَـارِ ذِى الْقُرْبٰى وَالْجَـارِ الْجُـنُبِ وَالصَّاحِبِ بِالْجَـنْۢبِ وَابْنِ السَّبِيْلِ ۙ وَمَا مَلَـكَتْ اَيْمَانُكُمْ...

মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ এর দায়িত্ব ও কর্তব্য

 মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ এর দায়িত্ব ও কর্তব্য বিষয়ে অবতীর্ণ জ্ঞান আমাদের সামান্য (৯:৯৭) । যতটুকু উল্লেখ্য : ১. আয়াত তেলাওয়াত করা ২. কিতাব শিক্ষা দেয়া ৩. হিকমত শিক্ষা দেয়া ৪. পবিত্র করা ৫. অনেক অজানা বিষয় শিক্ষা দেয় ৬. সুসংবাদ প্রচার করা ৭. আযাব সমন্ধে সাবধান বা সতর্ক করা ৮. স্পষ্টভাবে (অবতীর্ণ বিষয় সমূহ বুঝিয়ে ) পৌঁছাইয়া দেওয়া ৯. উম্মতের সাক্ষীরূপে ১০. আল্লাহ্‌র দিকে আহ্বানকারীরূপে এবং ১১. উজ্জ্বল প্রদীপরূপে (যা ফুৎকারে নিভানো যায় না)। এবার আয়াত সমুহ দেখুন: ‘হে আমাদের প্রতিপালক! তাহাদের মধ্য হইতে তাহাদের নিকট একজন রাসূল প্রেরণ করিও - যে তোমার আয়াতসমূহ তাহাদের নিকট তিলাওয়াত করিবে; তাহাদেরকে কিতাব ও হিক্‌মত শিক্ষা দিবে এবং তাহাদেরকে পবিত্র করিবে। তুমি তো পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’ رَبَّنَا وَابْعَثْ فِيْهِمْ رَسُوْلًا مِّنْهُمْ يَتْلُوْا عَلَيْهِمْ اٰيٰتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتٰبَ وَالْحِكْمَةَ وَ يُزَكِّيْهِمْ‌ؕ اِنَّكَ اَنْتَ الْعَزِيْزُ الْحَكِيْمُ সূরা নম্বর: ২ আয়াত নম্বর: ১২৯ যেমন আমি তোমাদের মধ্য হইতে তোমাদের নিকট রাসূল প্রেরণ করিয়াছি, যে আমার আয়াতসমূহ তোমাদের নিকট...

কুরআনে উল্লেখিত আকল বলতে কি বুঝায় ?

Image
আকল - বিবেক আকল সমৃদ্ধ মানুষঃ যারা প্রকৃত কারন খুজে বের করে, / যারা সঠিক বিষয়টি খুজে বের করে, / যাদের জ্ঞ্যান আছে/ যারা জ্ঞ্যানি/ যারা বুঝতে পারে/ যারা বিবেচনা করতে পারে / এক কথায় বাস্তব জ্ঞ্যানী বা বুদ্ধিমান সম্প্রদায় ।আকল এর গুনে = জ্ঞ্যানের এর ভাল মন্দ প্রকাশ পায়, বিশ্বাস বা ঈমান দুর্বল বা সবল হয় । ব্যরিস্টার সুমনের জ্ঞ্যান এবং উকিলের আকলের গল্প গ্রামের এক গরীব কৃষকের মেধাবী ছেলে সুমন । স্কুলের বেতন, পরীক্ষার ফি থেকে শুরু করে সব কিছুতেই সবাই সাহায্য করে । এভাবেই বিশ্ববিদ্যালয় পেরিয়ে লন্ডনে ব্যারিস্টারি পড়ার সুযোগ পায় । জমি বিক্রি করে ও গ্রামবাসীর সহযোগিতায় সে পড়ালেখা শেষ করে ঢাকা ফিরে । অসম্ভব মেধাবী হওয়ায়, ভাল রেজাল্ট করায়, ঢাকায় ফিরেই লন্ডনে পরিচিত ব্যরিস্টার বরকতের মেয়ে ব্যরিস্টার লিপ্সাকে বিয়ে করে ফেলে । সব কিছু মিলিয়ে সমন আর সেই সুমন নেই । মুল ঘটনা হলঃ আমাদের দেশে গ্রামে গ্রামে দাঙ্গা-হাঙ্গামা নতুন কিছু নয়। সুমন সাহেবদের গ্রামের সাথে পাশের গ্রামের দাঙ্গায় উভয়পক্ষেই খুনের ঘটনা ঘটেছে । গ্রামের সবাই ভাবল সুমনের কথা, ঢাকা এলো, কথা হোল, অনেক কথার পর ২ লক্ষ টাকার মধ্যে কেস লড়বেন...

শয়তানের পায়ে পায়ে চলিও না / শয়তানের ইত্তেবা করিও না

Image
শয়তান মানুষের স্বঘোষিত, বাস্ত্‌ব, আসল দুশমন । আমারা কত বইপত্র পড়ি, মারেফাত, সূফীতত্ত্ব, পিরতন্ত্র ইত্যাদি পড়ে রিপুর সন্ধান পাইঃ রিপু আমাদের নফসের শত্রু । তবুও বলি না আমার নিজের শত্রু আমি নিজেই । রিপুকে আমাদের শত্রু হিসেবে চিনেছি কিন্তু শয়তান যে আমাদের স্বঘোষিত দুশমন তা ভুলেই গেছি । অধিকাংশ তন্ত্রে মন্ত্রে তরিকতে ৬ রিপুর কথা আমরা জানি -তা হলঃ যে গুলো মূলতঃ শয়তানের ফাঁদ যা কুরআন বিভিন্ন ভাবে আমাদের সাবধান করেছে । ১। কামনা – লালসা / মোহ / কাম (lust/ Desire) ২। ক্রোধ = রোষ/ উত্তেজনা ( anger/passion) ৩। লোভ = লিপ্সা/ লালসা/ (cupidity/ ) ৪। মোহ = মায়া / বিভ্রম - (illusion) ৫। দম্ভ = মদ/অহংকার/আত্মগৌরব – (arrogance) ৬। দ্রোহ = বিদ্বেষ /পরশ্রীকাতরতা। - (Envy / hostality) এসব বিষয়গুলো বিভিন্ন বইতে এমন ভাবে বর্ণনা যে শয়তানের কোন দোষ নাই, সব রিপুর তাড়না । আসলে শয়তানই যে এ গুলোর ধারক বাহক। রিপু অর্থ মানুষের শত্রু । আর কুরআন বার বার কত সহজভাবে আমাদের শত্রু শয়তানকে চিনিয়ে দিচ্ছে । আল্লাহ কুরআন মাজিদে আমার জানামতে প্রায় ৮৮ স্থানে বিভিন্ন ভাবে শয়তানের বিষয়ে উল্লেখ করেছেন । এই শয়তানের চর...

রাসুল সাঃ এর শীনা চাক আসলে কি ভাবে হয়েছিল? সুদুরে কি হয়?

Image
সদর / সুদুর (বক্ষদেশ) এ লেখাটি পড়লে জানতে পারবেন আমাদের প্রিয় রাসুল সাঃ এঁর সীনা বা সদর বা বক্ষচ্ছেদ হয়েছিল কি ভাবে । আরও জানতে পারবেন, সুদুর কি এবং কিভাবে সুদুরে শয়তান ওসঅয়াসা বা সুরসুরি দেয় । সদর / বক্ষ (CHEST)ঃ একবচনে সদর – বক্ষ, বুক, অন্তর, হৃদয়, বহুবচনে সুদুর - বক্ষসমুহ, বুকসমুহ, অন্তরসমুহ, হৃদয়সমুহ । صَدْر সদর বা সুদুর কুরআনে অনেক স্থানে এসেছে, ব্যবরিত হয়েছে বক্ষের সাথে যা আছে তাকে উদ্দ্যেশ করে । আর বক্ষের মধ্যেই যেহেতু শারীরিক এবং অশারিরিক বস্ত গুলো লুকানো আছে । তাই এই কথাটিকেই আল্লাহ বার বার বলেছেনঃ আল্লাহ জানেন তোমাদের সুদুরে সাথে ( بِذَاتِ ) কি আছে । বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের মনে যা কিছু উদ্ভব হয় তার রক্ষনা বেক্ষন করার দায়িত্তে আছে সুদুর নামের এক ধরনের তীক্ষ্ণ জ্ঞ্যানী সুরক্ষা ব্যবস্থা । অর্থাৎ সুদুর হচ্ছে কল্বের সুরক্ষা ব্যবস্থা, যেমন প্রাকৃতিক ঠাণ্ডা গরম আগুন বাতাস থেকে চর্ম আমাদের রক্ষা করে। ত্বকে কোন কিছু অনুভুত হলে তা আমাদের অনুভুতি শক্তির মাধ্যমে হৃৎপিণ্ডে বা মনে সংবাদ পাঠাই, মন সে ভাবে ব্যবস্থা নেয়, বুদ্ধি দিয়ে দেহকে আদেশ করে । একই ভাবে শয়তান যখনই কল্বের মধ্যে ...

Hardware and Software of a Human being . মানব দেহের দৃশ্যমান অদৃশ্যমান অঙ্গ এবং প্রভাবক শয়তান

Image
এই মানব দেহ নামক সিস্টেম চালানোর ম্যানুয়ালের নাম আল-কুরআন । পাওয়ার যিনি দিয়েছেন তিনিই পাওয়ার অফ করবেন । কিন্তু নফস যদি চায় সেলফ অফ করবে তবে হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার মিলে নিজের পয়াওয়ার নিজেই অফ করতে পারে । যা নিষেধ । যত ধরনের ভাল কাজ আছে তা প্রেসিডেন্ট করবে এই মর্মে সে নির্দেশিত । কিন্তু তার চির শত্রু এবং বহিস্তঃ দেহ তথা দুনিয়ার লোভ, দেহের চাহিদা ইত্যাদির কারনে রুহের আদেশ ভুলিয়া শয়তানের লোভনীয় ফাঁদে পরে সুদুরের মাধ্যমে প্রথমে কলব এবং পরে রূহ কে প্রভাবিত করে পুরো সিস্টেম কে ভুল পথে নিয়ে যায় । রূহ যদি ছোট খাটো বিপদে পরে তৌবা করে ফিরে আসে তবেই রক্ষা, না হলে চির তরে ক্ষতিগ্রস্থ । ***********************নফস********************* মানব দেহ একটি রাজ্য, এই রাজ্যের বাদশার নাম রূহ ।এই রাজ্য ও বাদশার সৃষ্টি কর্তা, পালন কর্তা আল্লাহু সুবহানাহু ওয়া তায়ালা । এই রাজত্তের নাম নফস । এই নফস নামক রাজত্তের রূহ নামক বাদশার অনেক ক্ষমতা । সে তার রাজ্যে যা ইচ্ছা তাই করতে পারে, কিন্তু আল্লাহ যা চাহেন । অর্থাৎ তার দৈনন্দিন কর্ম সমুহ দেখা হয়, এবং রিপোর্ট প্রতিমুহূর্তে লেখা হয় । কিন্তু এই নফসের র...